আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা। সবাইকে স্বাগতম আমার নতুন পোষ্টে,আবার ও হাজির হলাম আপনাদের সামনে নতুন একটি পোষ্ট নিয়ে।
বাড়ির পাশে শ্বশুরবাড়ি নাটকের রিভিউ। আজকে আমি আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে এই নাটকের গল্পটি নিজের মত করে রিভিউ করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।তো বন্ধুরা চলুন শুরু করা যাক।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নাটকের নাম বাড়ির পাশে শ্বশুরবাড়ি পরিচালক মহিন খান অভিনয় নীলয় আলমগীর, তাসনুভা তিশা সহ আরো অনেকে ভাষা বাংলা মুক্তির তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৪
আপনারা এই নাটকের নাম শুনে বুঝতে পেরেছেন যে নাটকটি কেমন হবে৷ প্রথমে নাটকটি শুরু হয়৷ নায়ক এবং নায়িকার বাড়ি একেবারে কাছাকাছি ছিল৷ যার ফলে তারা একে অপরকে আগে থেকেই চিনতো৷ এখন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং এখানে নায়কের মা অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন৷ তবে নায়িকার বাবা-মা একটু সন্দেহপ্রবন এবং একটু লোভী মানুষ ছিলেন৷ যার ফলে তাদের মেয়ে যখন এখানে কোন ধরনের কাজ করতো কিংবা কোন কিছু করতো তখনই তারা তাদের বাসা থেকে সেটি দেখত। তাদের মেয়েকে এত কষ্ট করতে দেখে তারা বিভিন্ন ধরনের কথা বলত। বিভিন্নভাবে তাদের বাড়িতে চলে আসত। তাদের সাথে ঝামেলা করার চেষ্টা করত। এভাবেই তাদের সম্পর্ক চলতে থাকে।
এরপর একদিন যখন তারা সবাই মিলে বাসায় দাওয়াতে এসেছিল তখন বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হচ্ছিল৷ নায়ক ভাবছিল যেহেতু তার শশুর অনেকটাই কৃপণ তাই সে তার শ্বশুরের যে ছাগল রয়েছে সেটি চুরি করে নিবে। সে তার বন্ধু-বান্ধবসহ সেই ছাগল চুরি করতে সক্ষম হয়৷ এর পরবর্তীতে যখন তার বন্ধু-বান্ধবরা ধরা পড়ে যায় তখন নায়ক তাদের বিপক্ষ হয়ে তাদেরকে মারধর করা শুরু করে৷ সে বোঝাতে থাকে যে সে তার শ্বশুরের প্রতি অনেকটাই আন্তরিক৷ সে যখন চোরদেরকে মারতে থাকে তখন চোররা নায়কের চুরির কথাও বলে৷ কারণ নায়ক তাদেরকে সাহায্য করেছিল৷ তাদেরকে নায়কই বুদ্ধি দিয়েছিল৷ যার ফলে তারা চুরি করেছে৷ এরকম অনেক ধরনের কথাবার্তা হতে থাকে। তখন নায়ক সেই অপবাদ গুলো তার নিজের গায়ে নিতে চায় না৷ সে পুরোপুরি অস্বীকার করে৷
এরপর এগুলো নিয়ে অনেক বেশি ঝামেলা হয়ে যায় । নায়কের পরিবার এবং নায়িকার পরিবারের আরো অনেকগুলো সমস্যা নিয়ে তারা একদিন রাস্তায় ঝগড়াঝাঁটি করা শুরু করে দেয় । একে অপরকে অনেক মারধর করতে থাকে৷ এর পরবর্তীতে সামাজিক একটি বিচারের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে তাদের দোষের কথা প্রকাশ করা হয় ৷ এতদিন তাদের একে অপরের কারণে তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো৷ তবে এখন নায়ক এবং নায়িকার এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাকতে হবে৷ তা না হলে তাদের সম্পর্ক একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে৷ যার ফলে তারা সবাই মিলে সব কিছু বুঝে নেয় এবং পরবর্তীতে আবারো তারা একে অপরের সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা করে৷ নায়িকার বাড়িতে সে এসেছে, কাজ করবে এটি স্বাভাবিক৷ এই বিষয়ে কেন নায়িকার বাবা-মা বাড়িতে আসবেন৷ এরকম বিভিন্ন কথাবার্তা বলে। আরো বলে তারা যেন এরকম কোন কিছু না করে৷ এরপর তাদের মাঝে বিভিন্ন শান্তির কথাবার্তা হয়৷ এর পরবর্তীতে নাটকটি শেষ হয়
আমার ব্যক্তিগত মতামত।
খুবই সুন্দর একটি নাটক এটি৷ প্রথমে যখন নাম দেখি তখনই ভেবেছিলাম যে ঠিক এরকমই কিছু হবে৷ এরপর যখন নাটকটি দেখে নিলাম তখন খুব সুন্দরভাবে সবকিছু বুঝতে পারলাম৷ প্রথমেই নাটকটি শুরু হয় এবং নায়ক এবং নায়িকার বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পরে তাদের মধ্যে ছোটখাটো অনেক ধরনের ঝামেলা হতে থাকে৷ এই ঝামেলাগুলো ধীরে ধীরে অনেকটাই বড় আকারের হয়ে যায়৷ তাদের দুই পরিবারের মধ্যে অনেক বেশি ঝগড়া হয়ে যায়৷ যার ফলে তাদের এই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা চলে এসেছিল৷ তবে শেষ পর্যন্ত নায়ক এবং নায়িকার ভালোবাসার গভীরতার কারণে তাদের পরিবারের সম্পর্কও টিকে থাকে৷ আসলে বাড়ির পাশে বিয়ে দেওয়াটা খারাপ কিছু নয়৷ শুধুমাত্র আমাদেরকে এমনভাবে থাকতে হবে যাতে করে আমরা দূরে কোথাও বিয়ে দিলে যেরকম তাকে দেখতে পেতাম না৷ ঠিক তেমনি বাড়ির পাশে বিয়ে দেওয়ার ফলে যদি আমরা সবসময় তার সংসারে নজরদারি করতে থাকি৷ তাহলে কোনভাবে সে সংসার আর টিকে না।
আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে নাটকের রেটিংঃ ৯.৮/১০
নাটকটির লিংক এখানে দেয়া আছে।চাইলে দেখে নিতে পারেন।👇
সমাপ্ত
ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি।আগামিতে অন্য কোন নাটকের রিভিউ নিয়ে আবারও হাজির হবো।ভালো থাকবেন সবাই।আর কষ্ট করে রিভিউটি যারা পড়ছেন তাদেরকে মনের অন্তস্থল থেকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আজ আর নয়, আপনার নিকটতম এবং প্রিয়জনদের সাথে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, নিজের যত্ন নিন। আপনার দিনটি শুভ হোক।










